• শিরোনাম

    এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

    রানার ডেস্ক | শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 13 বার

    এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেলক্ষ্যে ওয়েবসাইটে রক্ষিত পুরনো তালিকা স্থগিত করা হবে। অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম যাচাই-বাছাই করে সেগুলো বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আধুনিক কার্ড দেওয়া হবে যাতে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে।’

    জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

    আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে যশোর সদরের খাজুরায় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের আগামী প্রজন্মকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনী জানাতে হবে, ঠিক তেমনই হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসের হত্যা, নারী নির্যাতন, দমনপীড়ন আর তাদের পৈশাচিকতা সম্পর্কেও অবহিত করতে হবে। যাতে করে তারা উভয়পক্ষের কথা জেনে বিচার করতে পারে। না হলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আর বীরত্বের কথা ভুলে যাবে।’

    মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যেন আরও কষ্ট করে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে না হয়, সেজন্য সরকারের তাদের মোবাইলেই ভাতার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তাতে করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ি বসেই তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।’

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই ক্ষমতায় ছিল মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা গং। আর বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা ১৬ বছর। কিন্তু তারা দেশের জন্যে যে কাজ করেছে, তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কাজ হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’

    তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, “জয় বাংলা’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। আপনারা নিজ নিজ সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালোভাবে শিক্ষা দিন। তারা যদি ‘জিন্দাবাদের’ স্লোগানে লিপ্ত হয়, তাহলে আমাদের আর ইজ্জত থাকবে না।”

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ প্রমুখ।
    পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

    বক্তৃতাকালে পল্লী ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা যদি বিজয় লাভ না করতে পারতাম, তাহলে হানাদার ও তাদের দোসররা আমাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতো। আমরা সৌভাগ্যবান, কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি। লাল-সবুজের এই পতাকা পেয়েছি। সেই যুদ্ধে বন্ধুরাষ্ট্র সহায়তা করেছিল; খাজুরায় যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ছয় সদস্য আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। আমরা তাদের স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে চাই।’
    যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ

    সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দেশের যে যে স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রয়েছে, যেখানে যেখানে বদ্ধভূমি রয়েছে, সম্মুখযুদ্ধের ঘটনা রয়েছে- সেসব স্থানে বর্তমান সরকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়ের বিবর্তনে আমরা একদিন হারিয়ে যাবো। কিন্তু এই সব স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা চিরঅম্লান থাকবে। যারা নিজেদের জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশমাতৃকার সম্ভ্রম রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার আগামী প্রজন্মের কাছে তাদের সেই বীরত্বগাথা অটুট রাখতে নিরলস কাজ করে চলেছে।’

    বেলা সাড়ে ১১টায় খাজুরা এমএন মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক কোণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে অন্যান্য অতিথিসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
    খাজুরায় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’

    ১৯৭১ সালে যশোর মুক্ত দিবসের পরদিন ৭ ডিসেম্বর সকালে খাজুরায় রাজাকারদের সঙ্গে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। সেদিন রাজাকাররা মিত্রবাহিনীর ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং একজন সদস্য আহত হন। পরে মিত্র বাহিনী রাজাকারদের ক্যাম্প ধ্বংস করে এবং তাদের প্রত্যেককে হত্যা করে। ঠিক এই স্থানেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধ’।

    স্মৃতিসৌধের বেদী থেকে ১৪ ফুট উঁচু স্তম্ভ শ্বেত পাথরের। পুষ্পার্ঘ অর্পণের জন্যে নির্মিত স্টেজটি কালো গ্রানাইটের, বেদী লাল সিরামিক ইট এবং স্তম্ভের মাঝে বৃত্তের অর্ধেক (বামপাশে) টকটকে লাল এবং বাকি অর্ধেক অংশ (ডানপাশে) সবুজ রঙের।

    Comments

    comments

    আপনার পছন্দের এলাকার খবর জানতে...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Educated Nepalese Are RAW-Financed

    ১০ অক্টোবর ২০১৮ | 1583 বার

    আজ বিশ্ব পঙ্গু দিবস

    ১৫ মার্চ ২০১৮ | 1122 বার

    ০১ ডিসেম্বর ২০১৭ | 1101 বার

  • ফেসবুকে দ্যারানারনিউজ.কম