• শিরোনাম

    বখাটেদের বিচার হবে কবে?

    রানার ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০১৭ | পড়া হয়েছে 389 বার

    সংগ্রহিত

    সমাজে বখে যাওয়া সন্তানদের সঠিক হিসাব পাওয়া মুশকিল। মাদকদ্রব্য সেবন থেকে শুরু করে ইভটিজিং ও ধর্ষণ এখন নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। সারা বিশ্বে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ আর নারী নিগ্রহের ঘটনা। নারীর সম্ভ্রম হরণের প্রবণতা বাংলাদেশের মতো দেশেও হচ্ছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যা উদ্বেগজনক। তবে এই অপরাধ সবচেয়ে বেশি ঘটে যে ১০টি দেশে তার মধ্যে বাংলাদেশ নেই। তবে বাড়ছে উদ্বেগজনকহারে। এই অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ধর্ষণের সংখ্যার হিসাবে পাঁচ নম্বরে আছে।

    সম্প্রতি বিশ্বের কয়েকটি সংগঠন জঘন্য এই নারী নিগ্রহের ঘটনার শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে আছে ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক্স, ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইন্সট উইমেন সার্ভার, কমিউনিটি অব ইনফরমেশন, এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাশনাল ক্রাইম রিপোর্টস ব্যুরো এবং জাস্টিস ইন্সটিটিউট অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া। তারা তাদের সমীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ধর্ষণের যে মাত্রা সেটি তুলে ধরেছেন। তালিকার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নাম আসা ওয়াশিংটনের জন্য বিব্রতকর বটে। তবে অনেক দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে রয়েছে মৃত্যুদন্ড। তাতেও অনেক ক্ষেত্রে কমেনি এই অপরাধ প্রবণতা।
    ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে এক ছাত্রীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গোটা ভারতকেই নাড়িয়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে (মানিকগঞ্জ এলাকায়) চলন্ত বাসে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে দুই বাসকর্মী। ধর্ষণের দায়ে গত ওই বছরেরই ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের একটি আদালত ওই বাসচালক দীপু মিয়া ও হেলপার কাশেম আলীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। কিন্তু সম্প্রতি একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটে চললেও নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও ঘরে-বাইরে তাঁরা নিরাপত্তাহীন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একের পর বিচারহীনতা রাষ্ট্র তাদেরকেই উৎসাহিত করছে।
    বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১২ সালে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে ১৭৯ জন, ২০১৪ সালে ১৯৯ জন, ২০১৫ সালে ৫২১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ চিত্র থেকেই স্পষ্ট- প্রতিবছরই শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৬৮৬টি শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ইভ টিজিং, যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২০১৫ সালে সারা দেশে ৭২৭টি শিশু যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তবে তাদের জরিপ অনুসারে ২০১৫ সাল থেকেই শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪তে সর্বমোট ২২৪টি শিশু যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল।
    সমাজে ঘটছে তো কতই। তবে আলোচিত হয় শুধু ক্যামেরার ফ্রেমে যেগুলো ঘটনা ধরা পড়ে সেগুলো। তনু হত্যার বিচার আজও করতে পারেনি রাষ্ট্র।
    এরই মধ্যে বাংলাদেশে নতুন সংযোজন রাজধানী ঢাকার বনানীতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে দেশের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরা।
    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
    এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।
    তবে তারা ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। ধর্ষণের ফুটেজ সংরক্ষণে রেখে পুনরায় ভোগ করার জন্য বø্যাক মেইল করেছে। বাংলাদেশের পরিচিত অলংকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ তার ছেলে সাফাতের জন্য দাম্ভিক বক্তব্য দিয়েছেন তাতেই বোঝা যায় তারা কত শক্তিশালী।
    অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে আসামীরা হইতো বেড়িয়ে আসবে এটাই যেন বাস্তব। আদালতের রায়ে ধর্ষক প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যদিও তাদেরকে ধর্ষক বলা যাবে না। কিন্তু মানুষের মনে তারা নিজেদের কুলাঙ্গার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এই স্থান ৫টি মহাসাগরের পানি দিয়ে ধৌত করলেও কিছুতেই মুছবে না, এটাই চরম সত্য। তবে আমাদের প্রত্যাশা, সমাজের এসব কুলাঙ্গারদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।

    Comments

    comments

    আপনার পছন্দের এলাকার খবর জানতে...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৩ এপ্রিল ২০১৭ | 1415 বার

    Educated Nepalese Are RAW-Financed

    ১০ অক্টোবর ২০১৮ | 1404 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে দ্যারানারনিউজ.কম