• শিরোনাম

    রংপুর-৩ উপনির্বাচনে ভোটের হার কম হওয়ার কারণ

    রানার ডেস্ক | রবিবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 3 বার

    রংপুর-৩ উপনির্বাচনে ভোটের হার কম হওয়ার কারণ

    কোনও ধরনের গোলযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন। আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস বলছে, গতকাল শনিবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। যদিও মোট ভোটের হার এবং প্রদত্ত ভোট সংখ্যার হিসাব করলে শতাংশ আরও কম দাঁড়ায়। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীর অনুপস্থিতি, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী না থাকা এবং প্রচার-প্রচারণার যথেষ্ট অভাবের কারণেই নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ কম ছিল।

    রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো জাতীয় পার্টি ও বিএনপি উভয় দলের প্রার্থীই ছিল বহিরাগত। নির্বাচনের পর বিভিন্নকাজে ডিও লেটার পেতে হলে জনগণকে ঢাকায় যেতে হবে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল শাহরিয়ার ওরফে আসিফ (আসিফ শাহরিয়ার) রংপুর অঞ্চলের হলেও তিনি এ আসনে নবাগত হওয়ায় ভোটারদের তার প্রতিও আগ্রহ ছিল না। এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় এবং প্রচার-প্রচারণার যথেষ্ট অভাবের কারণে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম ছিল।

    রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুবরন চন্দ্র সরকারের কাছে ভোটের হার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রার্থিতায় জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এই প্রথম রংপুর এসেছেন। বিএনপির প্রার্থীর বাবার বাড়ি এই অঞ্চলে হলেও তারা বহুকাল ধরেই ঢাকার বাসিন্দা। শুধু নির্বাচনের সময় এলাকায় আসেন। তাই মানুষের ভোট নিয়ে আগ্রহ ছিল না। কেননা উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের কাউকেই জনগণ নিজেদের লোক বলে ভাবতে পারেননি। আর তাছাড়া ক্ষমতাসীন দল সরাসরি নির্বাচনে না থাকায় তাদের নেতাকর্মীরাও মাঠে নেই, তাই নির্বাচনও জমেনি।

    উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনের মোট ভোটার চার লাখ ৪১ হাজার ২২৪। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ৯৪ হাজার ছয়টি। এরমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগীর আল মাহী ওরফে সাদ এরশাদ ৪৮ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির রিটা রহমান পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৪৭ ভোট।

    ভোট কম পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, নির্বাচনে কোনও স্থানীয় প্রার্থী নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম। আর যারা প্রার্থী হয়েছেন তারাও জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। ইউনিয়নের ভোটাররা অনেকেই জানতেন না কিসের ভোট, কেন ভোট আর প্রার্থীই বা কারা। তিনি বলেন, প্রচারণা যতটুকু হয়েছে তা ছিল কেবল শহরকেন্দ্রিক।

    তবে, সরকারি চাকরিজীবী ইমরুল কায়েস কাছে দাবি করেন, রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ‘মিথ’ যে আর অবশিষ্ট নেই এবারের নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে। বিজয়ী প্রার্থী সাদ এরশাদ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জিতলেও বিষয়টিকে ইমরুল কায়েস দেখছেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের প্রভাব হিসেবে। কেননা দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরের, আর মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাও রংপুরের। তারা জাতীয় নেতা। তাদের আহ্বানে জাতীয় পার্টির ফিক্সড ভোটগুলো সাদের পক্ষে পড়েছে। কিন্তু যদি ‘জাতীয় পার্টি মিথ’ কাজ করতো তাহলে লাঙ্গল ৫০ হাজারের নিচে ভোট পেতো না।

    রংপুর-৩ আসনের অধীন রংপুর সদর থানার হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, নিয়মরক্ষার ভোট হওয়ায় এটা নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল না। আর রংপুরের মানুষ বহিরাগতদের ভোট দিয়ে ক্লান্ত। তাই তারা ভোট দিতে যায়নি।

    Comments

    comments

    আপনার পছন্দের এলাকার খবর জানতে...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 469 বার

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে দ্যারানারনিউজ.কম